Professor Ghulam Azam

Home » বাংলা » গোলাম আযমকে ‘প্রিজন সেল’এ মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে -মিসেস আফিফা আযম

গোলাম আযমকে ‘প্রিজন সেল’এ মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে -মিসেস আফিফা আযম

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সংগ্রাম

ভাষা সৈনিক ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমকে প্রিজন সেলে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী মিসেস আফিফা আযম। নির্ধারিত সময়ে তাদেরকে সাক্ষাৎ করতেও দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনগুলোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতার ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসেস আযম। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘ এক মাস যাবত গ্রেফতারকৃত অবস্থায় বিএমএসইউ’তে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালের যে ‘প্রিজন সেল’এ উনাকে রাখা হয়েছে তা আদৌ মানসম্মত নয়। তদুপরি, খাবার কষ্ট তো রয়েছেই। এ অবস্থায় একজন অশীতিপর বৃদ্ধকে ‘নির্জন সেল’এ একাকী রাখাটাই তার জন্য এক মানসিক অত্যাচার। এরকম অমানবিক পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিবারের সদস্যদেরকে তিনি দেখতে পেলে উনার কিছুটা মানসিক শান্তি হয়।

পরিবারের সদস্যরাও সারাসপ্তাহ উন্মুখ থাকে উনার সাথে দেখা করার জন্য। কিন্তু আমি অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, কারা কর্তৃপক্ষ আমার পরিবারের সাথে উনার সাথে সাক্ষাৎসহ সকল বিষয়ে চরম নির্লিপ্ততা দেখাচ্ছেন। গত এক মাসে বিভিন্ন বিষয়ে আমার ১২/১৩টি আবেদনের ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্যজনক। এছাড়া প্রথম দিকে সপ্তাহে একবার (শুক্রবার), মাত্র তিনজন (যদিও ৫ জন দেখা করতে দেয়ার কথা আমরা জেনেছি) দেখা করতে দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ৮ দিন পর, অর্থাৎ শুক্রবারের পরিবর্তে শনিবারে দেখা করতে দেয়া হয়েছিল। এ সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার দু’দিন পার হয়ে যাবার পরেও কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের দেখা করতে দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) উনার সাথে দেখা করার জন্য দরখাস্ত জমা দেয়ার পর গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) আমার ছেলে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (সাবেক) আযমী, জেল গেটে অনেকক্ষণ পর্যন্ত অনুমতির জন্য অপেক্ষা করার পর কারাগারের ভেতর থেকে এক কর্মকর্তা জানান যে, ‘শুক্রবার সাক্ষাৎ সম্ভব নয়’। সেই কর্মকর্তা শনিবার  (১১ জানুয়ারি) সকালে খবর নেয়ার জন্য বলেন।

তিনি বলেন, আমার ছেলে আযমী গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত, ৫ ঘণ্টা, জেল সুপার ও তার সহকারীকে মোবাইলে ২০/ ২৫ বার ফোন করে ও ম্যাসেজ দিয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩টায় জানতে পারে যে, ‘আজও দেখা হবে না’। বেলা ৩টা পর্যন্ত আমার ছেলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কৃতী একজন প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে অপেক্ষমান থেকে বার বার ফোন করে এবং ম্যাসেজ পাঠিয়েও কোন কারা কর্মকর্তার দর্শন লাভ করতে সক্ষম হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আচরণ শুধু অসৌজন্যমূলকই নয়, অগ্রহণযোগ্যও বটে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৩টি প্রশ্ন তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, (এক) অধ্যাপক গোলাম আযমের সাথে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে না দেয়ার ব্যাপারে সরকারি কোন আদেশ জারি হয়েছে কি? হয়ে থাকলে তা আমাদের অবহিত করতে সমস্যা কোথায়?।(দুই) পরিবারের সদস্যদের সাথে অধ্যাপক গোলাম আযমকে দেখা করতে না দেয়ার ব্যাপারে সরকারের  কোন আদেশ না হয়ে থাকলে এটা কি জেল সুপারের সেচ্ছাচারিতা? যদি সরকারি আদেশ না থেকে থাকে তাহলে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা, যিনি আমাদের মতো কর/ খাজনাদাতাদের অর্থে লালিত, তিনি এত বড় স্পর্ধা পেলেন  কোথায়? (তিন) বিগত একমাসে জেল সুপার এর অবহেলা, উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততা রহস্যজনক। আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে হয়রানি করার অধিকার জেল সুপারকে কে দিয়েছে? তিনি কি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন? নাকি কোন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক ও অমানবিক আচরণ করছেন?

তিনি এ ব্যাপারে মহাকারাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে  জেল সুপার কর্তৃক এ ধরনের অন্যায় ও অবিচারের সুস্পষ্ট কারণ জানতে চান।


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: