Professor Ghulam Azam as a Father

A translation of this article will follow.

কেমন বাবা ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম? পর্ব 1

আমার বাবা অধ্যাপক গোলাম আযমকে নিয়ে লেখালেখির অন্ত নেই। মিডিয়াগুলোতো তাঁর পেছনেই বহু সময় নষ্ট করেছে বছরের পর বছর। আর সবটুকুই ১৯৭১ নিয়ে, যেন এর আগের ৪৯ বছর আর পরের ৪৩ বছর গোলাম আযম নামে কোন মানুষই দুনিয়াতে ছিলনা। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা কাজ করার উদ্যেগ নিচ্ছি ইনশা আল্লাহ। তবে এতে কিছু সময় লাগবে। মনটা এখনো গুছিয়ে ওঠেনি। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ আবার শুরু করেছি। কাজে ব্যাস্ত থাকলে হয়তো মনের ব্যাথাটা একটু ভুলে থাকতে পারব। কিন্তু তা আর পারছি কই? তিন তিনটি অন্যায় রায় এবং কামারুজ্জামান ভাইয়ের আসন্ন ফাঁসি নিয়ে মনটা খুবই খারাপ। মনের এমন অবস্থায় আব্বাকে নিয়ে গুছিয়ে বড় কোন লিখা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছেনা। তাই চিন্তা করলাম বাবা হিসেবে তাকে যেমন পেয়েছি তার কয়েকটি ছোট ছোট ঘটনা ধারাবাহিকভাবে লিখব যাতে এগুলো পরবর্তীতে সংকলিত করা যায়। আব্বা ২০১২ সালের ১১ই জানুয়ারী গ্রেফতার হবার পর “সন্তানের চোখে গোলাম আযম” নামে আমার একটি লিখা বেরিয়েছিল যা উনার ইন্তেকালের পর অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন এবং কিছু পত্রিকায় পুনঃপ্রকাশিতও হয়েছে। সেগুলো হয়তো পরে পুনরায় এখানে দেব, কিন্তু প্রথমে আপনাদের না জানা কিছু ঘটনা উল্লাখ করব।

১৯৯১ সালের কথা। আমি তখন আলীগড় মুসলীম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার আগে খুব অসুস্থ হয়ে পড়লাম। কিছুদিনের ব্যাবধানে কলেরা ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হলাম। টাইফয়েড নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে দেশে কোনমতে আসলাম। দেশে এসে প্রথম দিনই আবার প্রচন্ড জ্বরে হাসপাতালে ভর্তি হলাম। এত জ্বর যে ১০৪/৫ এর নীচে তাপমাত্রা নামছিলইনা। মেডিকেল বোর্ড বসল। ডাক্তাররাও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল। তেমনি সময় একটি রাতের কথা। আম্মা সারাক্ষন আমার পাশে থাকতেন। আব্বাও দিনে কয়েকবার ইবনে সিনা হাসপাতালে আমাকে দেখতে আসতেন। ঐ রাতে আমার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। অনেক সময় স্পঞ্জিং করার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে। একটু পরে আবার বেড়ে যায়। আব্বা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ওইদিন বাসায় যাবেননা। আম্মার সাথে সারারাত আমাকে স্পঞ্জিং করলেন। আম্মা অনেকবার বললেন তাঁকে আরাম করতে । কিন্তু তিনি কিছুতেই শুনলেননা। উল্টো আম্মাকে বললেন, “তুমিতো দিনরাত কষ্ট করছ। ওতো আমারও ছেলে। তুমি কিছুক্ষন আরাম কর, আমি ওকে স্পঞ্জ করছি।” প্রায় ৭০ বছরের মতো বয়স। জামায়াতের আমীর। বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। কিন্তু সন্তানের মায়ায় সবকিছু ভুলে গেলেন। সারারাত জেগে অসুস্থ সন্তানের সেবা করলেন!

কি হতভাগা আমি! শেষ বয়সে তাঁকে সেবা করার কোন সুযোগ পেলামনা। কেউ তাঁকে সেবা করতে পারলনা। মজলুম অবস্থায় আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। অত্যাচারী শাষকরা এই অধম সন্তানকে বাবার শেষ চেহারাটাও দেখতে দিলনা। কবরে নামাতে দিলনা। মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেও দিলনা। সত্যি বড় হতভাগা সন্তান আমি।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম? পর্ব ২

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব সরকার আব্বার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ায় ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত আব্বার স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। সে সময় আব্বা ইংল্যান্ডে থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী সম্মেলনে যোগ দিতেন এবং প্রতি বছর হজ্ব করতে যেতেন। দেশ স্বাধীন হবার পর আমাদের পরিবারের উপর দিয়ে চলতে থাকে নানা রকম অত্যাচার। কয়েকবার আমাদের বাসায় হামলা করে আসবাবপত্র ক্রোক করে নিয়ে যাওয়া হয়। এমতাবস্থায় সিদ্ধান্ত হয় যে দেশে থাকা আমাদের পরিবারের জন্য নিরাপদ নয়। ১৯৭২ সালে আমার বড় দুই ভাই ইংল্যান্ডে চলে আসেন। ১৯৭৫ সালে আমার তৃতীয় ও চতুর্থ ভাইও ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। আমার আম্মা আমাদের ছোট দুই ভাইকে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ৭ জুলাই লন্ডন পৌছেন।

বড় চার ভাই স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এ দেশে আসায় সমস্যা ছিলনা। কিন্তু আম্মা আর আমরা ছোট দুই ভাই ভিজিট ভিসা নিয়ে ইংল্যান্ডে আসায় বেশী দিন থাকা সম্ভব হলনা। ব্রিটিশ হোম অফিস একবার ভিসা বাড়ানোর পর দ্বিতীয়বার মানা করে দিল। এখন কি করা? এতদিনের বিচ্ছেদের পর আম্মার দেশে চলে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। আর আমি ছোট হওয়ায় আম্মাকে ছাড়া আমাকেও দেশে পাঠানো যাবেনা। ওদিকে আমার ৫ম ভাই নোমান নবম শ্রেণীতে থাকায় তার পড়াশুনার ক্ষতি যাতে না হয় সে জন্য উনাকে দেশে আমার তৃতীয় চাচা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোকাররমের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হলো। আল্লাহর রহমতে আব্বার এক কুয়েতি বন্ধু আব্বা, আম্মা ও আমার জন্য কুয়েতে পাচ বছরের রেসিডেন্স ভিসার ব্যবস্থা করায় এ সমস্যার সমাধান হলো।

কুয়েতে এক বছর আব্বাকে খুব কাছে থেকে পেয়েছি। এত কাছে তাঁকে আর কোনদিন পাইনি। আমার কোন ভাই উনাকে এত কাছে কোনদিন পাননি। অনেক কিছু শিখেছি এ সময় যা সারা জীবন কাজে লেগেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল দোয়া শেখা। ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত অনেক দোয়া তিনি শুধু শিখিয়েছেন তা নয়, অভ্যস্ত করিয়েছেন। যেমন ঘুম থেকে উঠার দোয়া। ফজরের নামাযে ডাকার সময় উনি এ দোয়ার প্রথম অংশ এভাবে বলতেন, “আল্হাম্দুলিল্লাদী আহ্য়ানা বা’দা মা আমাতানা —- ” আর তখন আমাকে বিছানা থেকে উঠে বলতে হত, “ওয়া ইলাইহীন নুশুর”

উনার দুরদুর্শিতা যখন চিন্তা করি তখন অবাক হই। তখনতো বুঝতামনা যে আপন মার্তিভূমিতে ফিরে আসার জন্য উনি কোন দেশের নাগরিকত্ব নেননি। একটার পর একটা চেষ্টা করে গেছেন দেশে ফিরে যাবার। আল্লাহ উনার প্রচেষ্টা কবুল করেছেন। তাই ১৯৭৮ সালের ১১ জুলাই আম্মা, আমি ও আমার তৃতীয় ভাই নিয়ে আব্বা প্রথম সুযোগে দেশে ফিরে আসেন।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম? পর্ব ৩

সবাই একথা জানেন যে আমার আব্বা অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেব খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপন করতেন। বাহিরের জগতে এই শৃঙ্খলা রক্ষা করা এতটা কঠিন নয় কারন ইসলামী আন্দোলনের নেতা হিসেবে তিনি এসব মেনে চলবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘরের ভেতর তিনি কেমন ছিলেন? এটা জানার জন্য ঘরের মধ্য থেকেই কারো কাছে শুনতে হবে। আজ আমি উনার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের কিছু উদাহরন আপনাদের সামনে দেব।

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গোছালো। নিয়ম অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া এবংস্বাস্থ্যকর খাবার ছিল উনার রুটিন। সাদামাটা বাঙালী খাবার ছিল উনার খুব পছন্দ। যেমন, করল্লা ভাজি, শুটকি, ছোট মাছ এ জাতীয় খাবার উনি খুব পছন্দ করতেন। শাক সব্জি থাকলে মাছ মাংস কমই খেতেন। আর একটা মজার অভ্যাস ছিল তার। ঝাল খাবারের সাথে মিষ্টি আচার খুব পছন্দ করতেন তিনি। যদি মিষ্টি আচার না থাকত তবে ফল দিয়ে আচারের কাজ সারতেন। বড়ই, আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি ফল প্রায়ই তিনি আচার হিসেবে ব্যবহার করতেন।

চুল কাটা, দাড়ি সাইজ করা, নখ কাটা ইত্যাদি নিয়মিত করতেন তিনি। আব্বার একটা ডায়েরী ছিল যাতে তিনি লিখে রাখতেন কবে কখন কোনটি করবেন। নিজের কাপড় নিজেই গুছিয়ে রাখতেন। কাপড় ইস্ত্রী করে তাঁকে দেয়া হলে উনি নিজের হাতে আলমারিতে গুছিয়ে রাখতেন। যখন সফরে যেতেন তখন নিজের সুটকেস নিজেই গুছাতেন। খুটিনাটি জিনিষ যেমন নেইল কাটার, জুতা পালিশ ইত্যাদি কোন কিছুই বাদ পড়তনা। এমনভাবে রাখতেন যে হাত দিলেই খুঁজে পাওয়া যেত। নিজের লুঙ্গি নিজেই ধুতেন। যেসব কাপড় বা জিনিষ নিয়মিত ব্যবহার করতেননা তা সুটকেসে করে উঠিয়ে রাখা হত। আব্বা ও আম্মার এমন জিনিসের বেশ কয়েকটা সুটকেস ছিল। একটি ডায়েরীর মধ্যে প্রতিটি সুটকেসের বর্ণনা ও কোন সুটকেসে কি আছে লিখা থাকত যাতে যখন প্রয়োজন পড়ে তখন খুজতে অসুবিধা না হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক চৌকস অফিসার আমার ভাই আমান আজমী বলেছেন যে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে যে শৃঙ্খলা তিনি মেনে চলতেন তা আমার বাবার দশ ভাগের এক ভাগও নয়।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম ? পর্ব ৪

বাংলা ভাষার উপর আমার বাবার অনুরাগ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে তিনবার জেল খেটেছেন, চাকুরী হারিয়েছেন, কয়েকবার মারমুখী মানুষের সম্মুখীন হয়েছেন – কিন্তু কখনো দমে যান নি। হাসি পায় যখন দেখি নিন্দুকেরা কোন এক পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলার চেষ্টা করে যে তিনি ভাষা আন্দোলনের জন্য পরে নাকি অনুতাপ করেছেন। এর থেকে ডাহা মিথ্যা আর কি হতে পারে? এই ব্যাপারটি প্রথম উঠে এসেছে উনি ২০১২ সালের জানুয়ারিতে জেলে যাবার পর। কখন কোথায় তিনি কি বলেছেন আর কোন মুর্খ বা মিথ্যাবাদী সাংবাদিক কি লিখেছে তা যদি বিশ্বাস করার মত হত তবে মানুষ তাঁকে এত ভালোবাসতনা। তাই কেউ আমাকে কোন পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করবেননা প্লিজ। সন্তান হিসেবে আমি জানি বাংলা ভাষার উপর উনার কেমন অনুরাগ ছিল। তারই দু একটি উদাহরন আজ দেব।

১৯৭২ সালে যখন ইংল্যান্ডে চলে আসেন তখন আমার বড় দুই ভাইয়ের বয়স ১৯ আর ১৮। বাড়িতে বাংলা সাহিত্যের চর্চা থাকায় ভাষার উপর তাদের দখল ভালই ছিল। কিন্তু আব্বা ভাবলেন এ চর্চা ইংল্যান্ডে অব্যাহত না রাখলে তা হারিয়ে যাবার আশংকা আছে। তাই ১৯৭৪ সালে দেশ থেকে আমার ভাইদের জন্য রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ আনালেন। স্কুলে পড়ার সময় উনিই আমাকে গল্পগুচ্ছ পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। রবীন্দ্রনাথকে আব্বা একজন দার্শনিক মনে করতেন যদিও তার সকল দর্শনকে তিনি অবশ্যই সমর্থন করতেননা। আব্বা বলতেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কিছু অসাধারন দর্শন গল্পগুচ্ছের মধ্যে আছে যার এক সার্বজনীন মূল্য আছে। সাহিত্যের একজন অনুরাগী হিসেবে গল্পগুচ্ছের প্রতিটি গল্পে আমি এসব দর্শনের সন্ধান পেয়েছি। রবীন্দ্রনাথের বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী ভূমিকা আর কিছু মুসলীম বিদ্বেষী ভূমিকার ব্যাপারে তিনি সচেতন করার পাশাপাশি এটা শিখিয়েছেন যে কোন সৃষ্টিশীল ব্যক্তির সৃষ্টির মধ্যে যা কল্যানকর তা গ্রহন করা উচিত আর যা মন্দ তা ত্যাগ করা উচিত।

কুয়েতে একসাথে থাকার সময় তিনি আমাকে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লিখতে অভ্যস্ত করেন। মনে পড়ে বাংলায় আমার প্রথম লিখার কথা। ১৯৭৭ সালে আব্বা আম্মার সাথে পবিত্র হজ্ব করার সৌভাগ্য হয় আমার। হজ্ব থেকে কুয়েতে ফিরে আসার পর আব্বা আমাকে হজ্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে বললেন। পরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘জাহানে নও’ নামক এক পত্রিকায় এটি ছাপানোর ব্যাবস্থা করেন। এটিই ছিল আমার প্রথম কোন প্রকাশিত লিখা। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখে যে আনন্দ সেদিন অনুভব করেছিলাম তা এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে।

আল্লাহর রহমতে একজন ভাষাবিদ হিসেবে আজ আমি ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। ভাষার উপর বেশ কিছু গবেষনা করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু ইংরেজী ও বাংলা উভয় ভাষা শেখা, তা চর্চা করা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হওয়া, এবং এসব থেকে ভাল কিছু শেখা এসব ব্যাপারে আব্বার যে অসামান্য অবদান তা বলে প্রকাশ করতে পারবনা।

আব্বা খুব আফসোস করতেন যে তাঁর অধিকাংশ নাতী-নাতনী তাঁর বাংলায় লিখ বই পড়তে পারবেনা। বিদেশে থাকার এটা এক বড় বিড়ম্বনা। মজার ব্যাপার হলো ইমিগ্র্যান্ট পরিবারের ক্ষেত্রে এই ভাষা হারিয়ে যাওয়া নিয়ে আমি গবেষনা করি। খুব ইচ্ছে আমার একটি সন্তান যেন তার দাদার বই পড়ার যোগ্য হিসেবে গড়ে ওঠে। আমার দ্বিতীয় মেয়ের মধ্যে এ আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। আশা করি আল্লাহ আমার এ আশা পুরন করবেন।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম? পর্ব ৫

আমাদের দেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রতিহিংসাপরায়নতা। প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল হওয়া যেন আমাদের রাজনীতিতে হারাম। বিশ্বের মধ্যে আমরাই হয়তো একমাত্র দেশ যেখানে প্রধান দুই দলের শীর্ষ ব্যাক্তিরা একে অপরের চেহারা দেখতেও নারাজ। এমনই এক দেশে ছিলেন গোলাম আযমের মতো রাজনীতিক যিনি ছিলেন একেবারে অন্যরকম। প্রতিহিংসা শব্দটি তাঁর অভিধানে একেবারেই ছিলনা। কোনদিন তাঁর মুখে বিরোধীদের সম্পর্কে এতটুকু কটু কথা শুনিনি। অশ্লীল শব্দতো দুরের কথা, কোনদিন তাঁর মুখে খারাপ, শয়তান, এমনকি দুষ্টু শব্দও শোনা যেতনা। সবসময় তাদের জন্য দোয়া করে বলতেন, আল্লাহ, তুমি হয় তাদের হেদায়াত করো, তা না হলে এদের অনিষ্ট হতে এ দেশকে হেফাজত করো।

নাগরিকত্ব মামলায় আব্বা যখন জেলে ছিলেন তখন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ আব্বার বিরুদ্ধে অনেক কথাই বলতেন। তিনি ছিলেন আব্বার ভাল বন্ধু। ফজলুল হক মুসলীম হলে একসাথে কাজ করেছেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে একসাথে কাজ করতেন। টেলিফোনে তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে কথা হোত। ঈদে সালাম বিনিময় হতো। জেল থেকে বেরিয়ে আব্বা উনাকে ফোন করে বললেন, আপনি রাজনীতির কারনে আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলেছেন। আমি কিন্তু তাতে তেমন মাইন্ড করিনি। আমরা বন্ধু ছিলাম, বন্ধুই থাকব। জবাবে নাকি সামাদ আজাদ সাহেব একটু অপ্রস্তুত বোধ করে স্বভাবসুলভ সিলেটি ভাষায় বলেন, ভাইসাবের শরীরডা বালা?

আব্বার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচারের অন্যতম হোতা ছিলেন জাহানারা ইমাম। আব্বার নাগরিকত্ব লাভের কিছুদিন পরই তার মৃত্যু হয়। এ সংবাদ যখন আসে তখন আব্বা জামায়াত অফিসে ছিলেন। আব্বা বাসায় এসে বললেন এক ঘটনা। জাহানারা ইমাম মারা গেছে এ সংবাদে উৎসাহী হয়ে অফিসের একজন স্টাফ আলহামদুলিল্লাহ বলে ওঠেন যা আব্বার কানে পৌছে। আব্বা সাথে সাথে তাকে ডেকে নিয়ে বলেন, কোন মুসলমানের মৃত্যুতে আল্লাহ একটি কথাই বলতে বলেছেন আর সেটা হোল ইন্নালিল্লাহ … । আপনি আলহামদুলিল্লাহ বললেন কেন? যেহেতু জাহানারা ইমাম নিজেকে মুসলমান দাবী করতেন তাই আমাদেরকেও আল্লাহর শিখিয়ে দেয়া কথাই বলতে হবে, অন্য কিছু নয়।

এমনই এক মানুষ ছিলেন তিনি। কিভাবে পারতেন আল্লাহই জানেন। এত মিথ্যা অপবাদ, এত অন্যায়, এত অবিচার – কিন্তু কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। শুধু নিজের কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। বিনিময়ে শুধু একটা জিনিষ চেয়েছেন – আল্লাহর সন্তুষ্টি।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম – পর্ব ৬

১৯৯৬ সালের শেষ দিকের কথা। আমার স্ত্রীর প্রথম সন্তান হবার কথা এক মাস পর। সাংগঠনিক প্রয়োজনে আব্বাকে সৌদি আরব যেতে হলো। সাথে আম্মাকেও নিয়ে গেলেন। দুজনেরই চিকিৎসারও প্রয়োজন ছিল। আমার সবচেয়ে বড় ভাই সে বছরের শুরু থেকে ইসলামীক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের চাকুরী নিয়ে জেদ্দা থাকেন সপরিবারে। চাকুরীর সুবিধার মধ্যে বাবা-মায়ের চিকিৎসার চার ভাগের তিন ভাগ অফিস থেকে পাওয়ায় সিদ্ধান্ত হলো যে দুজনই যাবেন। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি অনেক আগে থেকেই বিদেশে থাকেন। তাই আব্বা-আম্মা দুজনই যাবার ব্যাপারে দ্বিধায় ভুগছিলেন। আমরাই জোর দিয়ে বললাম যাওয়ার জন্য আর যেহেতু আমার শাশুড়ি বাচ্চা হবার সময় আসার কথা তাই তাদের চিন্তার কিছু নেই বলে স্মরন করিয়ে দিলাম।

যাবার দিনের দৃশ্যটি এখনও স্পষ্ট মনে আছে। আমার স্ত্রীকে এভাবে রেখে যেতে দুজনেরই মন খুব খারাপ। আম্মাতো আগের দিন থেকেই কাঁদছেন। আব্বা যাবার সময় আর চোখের পানি রাখতে পারলেন না। আমার স্ত্রীর মাথায় হাত দিয়ে বললেন, “তোমাকে আল্লাহর হেফাজতে রেখে গেলাম। এভাবে চলে যাচ্ছি দেখে মনে কিছু করনা মা!”
১১ই জানুয়ারী ১৯৯৭ তে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হল। আব্বা ইমেইলের মাধ্যমে বিরাট একটি চিঠি পাঠালেন অভিনন্দন জানিয়ে। তাঁর মধ্যে একটি অংশ ছিল উল্লেখযোগ্য। তা হলো – “ইংলিশ ডিকশনারীর আবিস্কারক ডঃ জনসনের একটি বিখ্যাত কথা আছে, Married life has many pains, but celibacy has no pleasure (বিবাহিত জীবনে অনেক দুঃখ থাকতে পারে, কিন্তু অবিবাহিত জীবনের কোন সুখ নেই)। বিবাহিত জীবনে হয়তো কোন কোন সময় তুমি দুঃখ পেয়ে থাকতে পার, কিন্তু বাবা হবার যে আনন্দ তা সকল দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। আশা করি তুমি সেই সুখ এখন উপভোগ করছ”। উনার সেই চিঠিটি আমার মনে কি যে অনাবিল শান্তি এনে দিয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবনা।

আমার প্রথম দু সন্তান বাংলাদেশেই জন্মেছে। বড় মেয়ে সাড়ে আট বছর আর মেজ মেয়ে পৌনে চার বছর দাদা-দাদুর আদরে বড় হয়েছে। কিন্তু দুজনের জন্মের সময়ই তাঁরা কেউ পাশে ছিলেন না, এটা আমার দুর্ভাগ্য। দ্বিতীয় মেয়ে হবার সময় তাঁরা ইংল্যান্ড ও আমেরিকা সফরে ছিলেন। তাঁদের ২৩ জন নাতী-নাত্নীর মধ্যে আমার বড় দুজন দাদা-দাদুর আদর সবচেয়ে বেশী পেয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। যারা জীবনে যা দেখলাম পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে আমার মেজ মেয়ে সাফার বর্ণনা অনেক যায়গায় আছে। দুঃখের বিষয় যে আমার ছোট মেয়ে হানাকে না দেখেই আব্বা চলে গেলেন। এই দুঃখ আমার চিরিদিন থাকবে। যখন আব্বার ছবি দেখে সে দাদা বলে চিৎকার দেয়, তখন মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। ইনশা আল্লাহ জান্নাতে সে তার দাদাকে দেখতে পাবে – মুসলীম হিসেবে এটা আমার বিশ্বাস, শান্তনা আর আশা।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম – পর্ব ৭

সন্তানের চোখে গোলাম আযম নামে আমার একটি লিখা নয়াদিগন্তে ছাপা হয়েছিল ২০১২ সালে আব্বা গ্রেফতার হবার পর। যে লিখাটি পাঠিয়েছিলাম তা একটু কাটছাট করে ছাপা হয়। এখানে আমার মুল লিখা থেকে কিছু অংশ দিচ্ছি কারন আমার এই ধারাবাহিক লিখায় এগুলো থাকা অপরিহার্য। পরবর্তীতে সে লিখা থেকে আরো কিছু অংশ দেয়া হবে।

আব্বার সান্নিধ্য আমার মত এত বেশী আমার কোন ভাই পাননি। সবার ছোট হিসেবে আমি আদরটা একটু বেশীই পায়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়ীতে সবার ছোট ছেলেকে ‘কোলের পোলা’ বলে।ছোটবেলায় আমি কোন আব্দার করলে যদি আম্মা রাজী না হতেন, তখন আব্বার শরনাপন্ন হতাম। তিনি আম্মাকে বলতেন, “যা চাচ্ছে দাওনা, তোমার একটাইতো কোলের পোলা”! আমার খাওয়া দাওয়া নিয়ে একটু বাছাবাছি আছে। এ ক্ষেত্রেও যখন আম্মা বেকে বসতেন, তখন আব্বার ভেটোর কারনে আমি পার পেয়ে যেতাম। আম্মা প্রায়ই তাঁকে বলতেন, “আপনার আহ্লাদের কারনেই ছেলেটির খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস ঠিক হলনা।”

অত্যান্ত আদর করতেন বলে একজন আদর্শবান বাবা হিসেবে তিনি তঁার দায়িত্ব পালনে একটুও শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। পাঁচ বছর বয়স থেকে আমার দাদা আমাকে নামাজে অভ্যস্ত করেন। এরপর থেকে কোনদিন নামাজ ছাড়াতো দূরের কথা, জামায়াতে নামাজ না পড়লে আব্বার কঠোর বকা শুনতে হতো। প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পর আব্বা মসজিদের চারিদিকে তাকিয়ে দেখতেন তাঁর ছেলেরা জামায়াতে হাজির হয়েছে কি না। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে, ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের জন্য যে দোয়া রাসুল (সা:) শিখিয়ে গেছেন, তা আব্বা আমাকে শুধু শিখিয়েই ক্ষান্ত হন নি, নিশ্চিত করতেন সেগুলো সময়মত আমি পড়ছি কি না। আব্বার সান্বিধ্যে আমার জীবনের অন্যতম সময়টি কেটেছে ১৯৭৭ সালে যখন ১১ বছর বয়সে আব্বা-আম্মার সাথে পবিত্র হজ্ব করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আরাফাতের ময়দানে আব্বার সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে দোয়া করেছিলাম ও চোখের পানি ফেলেছিলাম তা স্মৃতির মানসপটে এখনও ভেসে ওঠে। দোয়ার পাশাপাশি নিয়মিত কোরান পড়া ও মুখস্থ করার ব্যপারে তিনি সবসময় খোজখবর নিতেন।

মানুষ হিসেবে যেসব মৌলিক গুনাবলী থাকা উচিৎ তার সবকিছুই আমি আব্বার কাছ থেকে শিখেছি। জীবনের সর্বক্ষেত্রে মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকা, কোন ওয়াদা করলে তা রক্ষা করা, সময় অনুযায়ী চলা, সময়ের অপচয় না করা, মানুষের সাথে সবসময় ভাল আচরন করা ইত্যাদি অনেক বিষয়ে প্রায়ই তিনি আমাদের কোরান ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বোঝাতেন। এগুলোর কোন কিছুতে ভুল হলে খুবই রাগ হতেন। আব্বা গায়ে হাত দিয়ে খুব কমই শাষন করতেন। জোরে চিৎকার করেও বকা দিতেন না। কখনও নরম ভাষায় আবার কখনও কঠোর ভাষায় বোঝাতেন যেন সে অন্যায় আর না করি। ছোটখাট বিষয়ও তিনি ছেড়ে দিতেন না। একটা ঘটনার কথা বলি। আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। আব্বা আমাকে তাঁর চেম্বারে ডাকলেন একজন লোকের সাথে পরিচয় করানোর জন্য। সালাম বিনিময়ের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন আছ?” আমি বললাম, “ভাল”। আর কিছু না বলে যখন দাড়িয়ে আছি, তখন আব্বা আমাকে কঠোর ভাষায় বললেন, “একজন কেমন আছ জানতে চাইলে তাকেও অনুরুপ প্রশ্ন করাটা খুবই জরুরী। এটি তোমার করা উচিৎ ছিল। ভবিষ্যতে তুমি এ কথাটি মনে রাখবে।” সেই থেকে আজ পর্যন্ত কোনদিন এ ভদ্রতা প্রদর্শন করতে আমি ভুলিনি।

কেমন বাবা ছিলেন গোলাম আযম? পর্ব ৮

ছোটবেলা থেকেই আমি খেলাধুলা পছন্দ করতাম। এ ব্যাপারে তিনি কখনও নিরু:সাহিত করেন নি। তিনি নিজেও ছাত্র অবস্থায় খেলাধুলা করতেন। ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খুব ভাল খেলতেন। স্কুল জীবন থেকে স্কাউট করতেন। তবে আমার খেলাধুলার প্রতি একটু বেশী ঝোক ছিল যা তিনি পছন্দ করতেন না। বিশেষ করে খেলা দেখে সময় নষ্ট করাকে তিনি খুব অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, “জীবনকে খেলা হিসাবে নেবে না। আল্লাহ্র কাছে কি জবাব দেবে?”

আমার পড়াশুনা নিয়ে আম্মার চিন্তার শেষ ছিল না। খেলা নিয়ে একটু বেশী ব্যাস্ত থাকায় ছোটবেলায় পড়াশুনা কমই করতাম। আব্বা সবসময় বলতেন, “তুমি বড় হচ্ছ। নিজের ভালটা তোমার নিজেকেই বুঝতে হবে। তুমি পড়াশুনা কতটুকু করছ তার দায়িত্ব তোমার নিকটই ছেড়ে দিলাম। আমি শুধু রেজাল্ট দেখব”।

আমার আব্বা-আম্মার বড় শখ ছিল তাদের একটি ছেলে অন্ততঃ ডাক্তার হোক। বিভিন্ন কারনে আমার বড় পাচ ভাইয়ের কেউ যখন ডাক্তার হতে পারলেন না তখন আমার উপরই তাঁরা ভরসা করতে শুরু করলেন। আমিও নিজেকে সে হিসেবে তৈরী করতে সচেষ্ট হলাম। কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ই বুঝতে পারলাম যে, যে বিষয় আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি তা হচ্ছে Biology। বুঝতে পারলাম আমার দ্বারা ডাক্তারী পড়া হবে না। আম্মাকে একবার বোঝানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু তিনি কিছু শুনতেই চাইলেন না। আর আব্বাকে তো কিছু বলার সাহসই পেলাম না। এক প্রকার জোর করেই আম্মা মেডিকেল ভর্তি কোচিং এ ঢুকিয়ে দিলেন। এর কিছুদিন পর আম্মা ইংল্যান্ডে চলে আসলেন আমার ভাইদের সাথে কিছুদিন কাটাতে। এই আমি সুযোগ পেয়ে গেলাম। আব্বা তঁার নীতি অনুযায়ী অপেক্ষা করছেন রেজাল্ট দেখার জন্য। কোচিং এ যাচ্ছি সেটা তিনি ধরেই নিয়েছিলেন। কিন্তু আম্মা ইংল্যান্ডে যাবার সাথে সাথে আমি কোচিং এ যাওয়া বন্ধ করে দিলাম। বন্ধুদের সাথে দিব্যি ক্রিকেট খেলে বেড়ালাম। শুধু খাবার সময় বাসায় থাকতাম যাতে আব্বার সন্দেহের কারন না হই। কিন্তু এভাবে ফাকি দিয়ে আর কতদিন? ধরা একদিন পড়তেই হলো।

আমার খবরই ছিল না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কবে। একদিন পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখি বিশাল হেডলাইনে লিখা, “আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা”। হায় হায়, এখন কি করি? আব্বাকে কি জবাব দেব? দু দিন খাবার টেবিলে দেখা দিলাম না। লুকিয়ে লুকিয়ে কাটালাম। কিন্তু তা আর কতদিন? আমার ডাক পড়লো আব্বার চেম্বারে। দুরু দুরু পায়ে গেলাম তঁার সামনে আর ভাবতে লাগলাম তিনি কতটুকু রাগ করবেন আর কত বকা দেবেন।

“কি ব্যাপার, দু দিন থেকে তোমাকে খাবার টেবিলে দেখছিনা কেন?”
আমি নিশ্চুপ! নীচের দিকে তাকিয়ে প্রমাদ গুনছি।
“মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছ?”
“জি না” বলেই ভয়ে অস্থির হয়ে উঠলাম কি শুনতে হবে এ কথা ভেবে।
“বুঝতে পেরেছিলাম, এ জন্যই তুমি পালিয়ে বেড়াচ্ছ। তো মেডিকেল না পড়লে কি পড়তে চাও?”
“ইংরেজী”
“সেটাতো খুব ভাল সাবজেক্ট। এ কথা আগে বল নি কেন?”

কোন বকা নয়, কোন রাগ নয়, কি সুন্দরভাবে তিনি আমার এতদিনের আশংকাকে ভুল প্রমান করে আমার বুকের ওপর থেকে বিরাট বোঝা তুলে নিলেন! তিনি আমার ইচ্ছার কথা চিন্তা করে তঁার দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে হাসিমুখে ভুলে গেলেন। সন্তানের জন্য নিজের আকাঙ্খাকে মূহুর্তের মধ্যে কুরবানী দিয়ে দিলেন। আমি যখন পি এইচ ডি শেষ করলাম তখন আব্বা-আম্মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘ডাক্তার’ না হয়ে ‘ডক্টর’ হওয়ায় তাদের কেমন লাগছে। তঁাদের গর্বিত হাসি আমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছিল।

Thoughts of a son on Ghulam Azam’s 92nd Birthday

This article was written by Professor Ghulam Azam’s son on what would have been his 92nd birthday. An English translation will follow shortly.
আব্বা আপনার ৯২তম জন্মদিনে আপনার অধম সন্তানের ভাবনা

আব্বা, আপনি বেচে থাকলে আজ আপনার ৯২ বছর পূর্ণ হতো। আমি জানি না আমার মনের এ কথাগুলো আপনার কাছে পৌছবে কি না। আল্লাহ চাইলে তিনি সবই পারেন। তাই আশা করি মহান রাব্বুল আলামীন আপনার কাছে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে এ ভালবাসার কোথাগুলো আপনাকে পৌছাবেন।

সাড়ে সাত বছর আগে আপনাকে শেষ দেখেছি। ইংল্যান্ডে আসলে আপনি আমার বাসায়ই এক মাস থাকতেন। বিয়ের পর ৯ বছর আপনাদের সাথে থাকার কারনে আমার সন্তানদেরকেই আপনারা নাতী-নাত্নী হিসেবে বেশী পেয়েছেন। আর ছোটকাল থেকে ভাইদের মধ্যে আমিই আপনাকে বেশী কাছে পেয়েছি। মনে বড় আশা ছিল একবার অন্তত আপনার সাথে আবার দেখা হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার যে আপনার পবিত্র মুখটি আর কোনদিন দেখতে পারবনা। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন যেন আখেরাতে আপনার সাথে একত্রিত হয়ে আপনার পাশেই চিরকাল থাকতে পারি।

আব্বা, আপনি ছিলেন বহুগুনের সমন্বয়ের একজন মানুষ। এ ধরনের মানুষ আল্লাহ খুব বেশী দুনিয়াতে পাঠাননা। তাই আপনার মতো হওয়ার দুঃসাধ্য আপনার এ সন্তানের নেই। তারপরও এটুকু বলতে পারি যে আমি আজ যতটুকু হতে পেরেছি তার সবটুকু আপনার অবদান। আপনি শিখিয়েছেন, কোন অবস্থায় নামায কাযা করা যাবে না। আপনি শিখিয়েছেন দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য দোয়া যা আমি আমার সন্তানদের শেখানোর চেষ্টা করেছি। আপনি শিখিয়েছেন জীবনের কোন মুহূর্তেই নীতি-নৈতিকতার সাথে আপোষ করা যাবে না। আপনি শিখিয়েছেন কোনদিন কারো প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ন হওয়া যাবে না। আপনি শিখিয়েছেন কোনদিন জেনেশুনে কারও মনে কষ্ট দেয়া যাবে না। আপনি শিখিয়েছেন সকল ক্ষেত্রে এবং সকল বিপদ আপদে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে। আমার সৌভাগ্য ছিল যে নিজের চোখে আপনাকে দেখেছি এসব অক্ষরে অক্ষরে আমল করতে। আপনার মতো করে না পারলেও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি আপনার এসব উপদেশ মেনে চলতে। আর এসব শিক্ষার কারনেই আপনার বিরুদ্ধে এতসব অবিচার ও শেষ মুহূর্তে আপনাকে দেখতে না পারলেও ধৈর্যহারা হইনি। শুধু দোয়া করেছি আপনার জন্য আর মনের ব্যথাগুলো শেয়ার করেছি আপনাকে যারা ভালবাসে তাদের সাথে।

আব্বা, নিন্দুকেরা আপনার প্রফেসর হওয়া নিয়ে কথা বলে। আপনি তো কোনদিন নিজেকে প্রফেসর হিসেবে দাবী করেননি। মানুষ দ্বীন ও আধুনিক বিষয়ে আপনার পান্ডিত্যের কারনে আপনাকে এই উপাধী দিয়েছে। আমার মনে পড়ে আমার নানা আপনাকে যখন চিঠি লিখতেন, তখন আপনাকে ‘মাওলানা’ বলে সম্বোধন করতেন। এরা বোঝেনা যে এটা সম্মানের উপাধী, শিক্ষকতা করে প্রমোশন পাওয়া কোন উপাধী নয়। তারা এটাও বোঝেনা যে আপনি শুধু একজন নেতাই ছিলেননা, অনেকের শিক্ষকও ছিলেন। এমন কোন শিবিরের প্রাক্তন নেতা পাওয়া যাবেনা যিনি আপনার ষ্টাডি সার্কেলে অংশ নেন নি। কারমাইকেল কলেজে স্বল্প সময়ের মধ্যে আপনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক। আলহামদুলিল্লাহ ১৯৯৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা করে আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়েছি। আমি মনে করি এর পেছনে আপনার কাছ থেকে শোনা অনেক মুল্যবান পরামর্শ সহায়ক হয়েছে।

আব্বা, আজ যখন বিভিন্ন স্মরন সভায় আপনার মানবিক গুনাবলী অন্যদের মুখে শুনি, তখন গর্বে মনটা ভরে যায়। যখন আপনার সহজ সরল জীবন যাপন, নিয়মানুবর্তিতা, সকলের প্রতি খেয়াল, নিরহংকারী অমায়িক ব্যবহার, আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুনি, তখন শুধু এ কথাই ভাবি যে আল্লাহ আমাকে কত বড় ভাগ্য দিয়েছেন যে আপনার মতো মানুষের সন্তান হতে পেরেছি। আপনার ছেলে হওয়ার কারনে আমি ও আমার চতুর্থ ভাই আমান আযমী বিভিন্ন সময় বৈষম্যের স্বীকার হওয়ায় আপনি মন খারাপ করতেন। কিন্তু আমরা সবসময় বলতাম যে, এসব পার্থিব সাময়িক সমস্যা থেকে আপনার শিক্ষা ও দোয়া নিয়ে এই দুনিয়াতে বেচে থাকাই সবচেয়ে বেশী গৌরবময়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আপনার সন্তান হবার কারনে যে ভালবাসা পেয়েছি তার তুলনায় বাংলাদেশে কিছু লোকের অন্যায় আচরন অতি নগন্য।

অনেক কিছু লিখতে চেয়েছিলাম আব্বা, কিন্তু লিখতে পারছিনা। আপনার পবিত্র মুখটি শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠছে আর চোখের পানি দু চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। শেষ কটি বছর আপনি যে কষ্ট পেয়ে গেছেন সে কথা মনে পড়লে মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ এ কষ্ট দিয়ে আপনার মানুষ হিসেবে সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। এখন আপনি নিশ্চয়ই শান্তিতে আছেন ইনশা আল্লাহ। সকল কষ্ট, সকল মিথ্যা অপবাদ থেকে আল্লাহ আপনাকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আর আপনার ইন্তেকালের পর মানুষের ভালবাসা প্রমান করেছে, যে আপনি কত ভাল মানুষ ছিলেন আর মানুষের কত প্রিয় ছিলেন।
আজ আপনার ৯২তম জন্মদিনে তাই আপনার জন্য আল্লাহর শিখিয়ে দেয়া দোয়া করি – রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।

ইতি

আপনার অতি আদরের ছোট ছেলে সালমান

Memorial Book for Ghulam Azam

Many people came to pay their respects following the death of Professor Ghulam Azam. The family have been overwhelmed by messages from all over the world, from respected community, religious and political leaders as well as those who were inspired by his leadership and values. A memorial book has been created by the family to preserve some of these memories and thoughts.

Please click through the gallery to read some of the messages (mostly in Bengali).

Thousands Attend Ghulam Azam’s Janazah

1st Muharram 1436, 25th October 2014

Hundreds of thousands attended Professor Ghulam Azam’s Janazah which was held after Dhuhr prayers at Baitul Mukarram Mosque in Dhaka. In a fitting tribute to the great leader and Islamic personality, the streets were filled with mourners attending to pay their last respects. The funeral procession and prayers were all conducted peacefully and without incident, despite a heavy police presence. The indignity and hardship of his last years due to the illegal and politically motivated trial conducted by the Awami League government can never be forgotten. The family have found comfort in knowing he was honoured in death with something akin to a state funeral and a dignified burial beside his father in the family graveyard. May Allah accept good deeds and sacrifice in the service of Islam and Bangladesh.

His Janazah was led by his son, former Brigadier General Amaan Azmi. He also gave a powerful speech to the crowd which moved many listeners to tears, speaking of his father’s sincere love for Islam and his hope that many more will continue to be inspired by him. The family are particularly indebted to Amaan for providing constant support to his parents in the face of unrelenting pressure from the government and media.

In addition to the main Janazah prayer, many more thousands attended funerals in absentia which were performed all over Bangladesh and in many other countries around the world on Friday and Saturday. Prayers were led by the eminent scholar, Sheikh Yusuf Al-Qaradawi in Doha, Qatar and in the UK, USA, Finland,Turkey, Malaysia, Saudi Arabia, Pakistan and India. He was particularly revered in Turkey as a  close friend of the former Turkish premier, Necmettin Erbakan, and his death was reported as front page news by a national newspaper, as well as by many Turkish supporters on Twitter.

We continue to uphold Ghulam Azam’s innocence and to denounce the International Crimes Tribunal which has led to the wrongful arrest and imprisonment of opposition leaders in Bangladesh. We have no doubt that the trial failed in its aim to provide justice for those who suffered in 1971 and has victimised those who politically opposed independence. Our prayers are with those who remain in custody and with the family of Abdul Quader Mollah.

Professor Ghulam Azam has passed away

ghulam azamIt is with great sadness that we inform you of the death of Professor Azam who passed away on the day of Jumuah after a lifetime of sacrifice and dedication to his Lord and Islam. Inna lillah wa inna ilayhi rajiun.The date is October 23 2014. He is survived by his wife, 6 sons and his grandchildren and great grandchildren. May Allah, the Lord of the worlds, accept him as Shaheed. May his many good deeds and exceptional sacrifices be accepted. May those who oppressed him face justice. May he enter an enlightened grave and the highest paradise. May his wife and family meet him there. Ameen.

We seek your prayers that the family are able to give Prof Azam a dignified burial and to see him and pay their respects. We fear that those who have oppressed him in life will seek to prevent this from happening.

We request all Professor Azam’s well wishers to observe his passing with fortitude, dignity and patience. Professor Azam was a man of peace and love for his Lord. Please grieve as he is worthy of being grieved. We expect the government to respect people’s democratic right to peacefully grieve and protest the injustice that has been subjected on this righteous leader.

Professor Ghulam Azam taken ill

HEALTH UPDATE – 3: PROF GHULAM AZAM from his son in Bangladesh
As of 12 pm BDT:
A new Medical Board which was formed sat in the morning.
Outcome:
1. Treatment for ‘renal failure’ started yesterday. Since his kidney wasn’t in bad condition before, under standard conditions it is usually reversible. However, due to his age and other ailments it is uncertain.
2. He also has ‘enlarged prostate’.
3. There are problems with his heart too.
Apart from the above findings/ conclusions,
1. He is extremely weak and can’t move his limbs.
2. Tries to talk, but no sound. It sounds like ‘whispering’.
3. Previous other problems still exist.
Prayer of millions around the world will isA help him completely recover soon.

Previous Update:

Prof Azam has been diagnosed with renal failure and acute dehydration this evening. He has been transferred to the Critical Care Unit due to his poor health. Please continue in your prayers for him.


أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمَاً
“O Lord of the people, remove this pain and cure it, You are the one who cures and there is no one besides You who can cure, grant such a cure that no illness remains”.
“Ayesha (R.A.) stated that when Prophet Mohammad (SAW.) was ill, he used to recite the four Quls, blow on his hands and pass them over on the back and front. He also recited these surahs, blew on his hands and passed them over his body during his fatal illness”.

(Bukhari, Muslim)

“Ghulam Azam in a critical state” – Wife Mrs Azam

Former Ameer of Jamaat-e-Islami Professor Ghulam Azam, who is serving a 90-year prison sentence for so called ‘crimes against humanity’, is in a critical condition – said his wife Mrs Afifa Azam in a statement on Sunday.

Mrs Azam said that she went to see Prof Azam at the hospital prison cell of BSMMU on Saturday and found his condition to be “extremely feeble”. She said, “Today we saw him in the worst condition so far. Physically he is so weak that two people had to hold him to get him up from bed. His eyesight has become much weakened and hearing ability considerably lessened than the last time we saw him. It was hard to even hear his voice.”

She continued, “He didn’t even have strength to move his hands, feet, shoulders, head etc. He is hardly able to eat nowadays and his weight is going down day by day looking nothing but a skeleton. He fell down in the bathroom thrice in less than a month.  According to him, the doctors found him to be in a critical condition last Thursday”.

“Despite being in such a critical state, the hospital or jail authorities didn’t even inform the family about his condition” – complained Ghulam Azam’s wife.

She expressed concern that such inhumane behaviour, like indifference and lack of care may lead to catastrophic consequences.

In her statement, Mrs Azam requested the authority to release him to ensure his proper medical care under family supervision.

She also called upon the people to pray for her ailing husband.

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৯০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী সৈয়দা আফিফা আযম।

রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

আফিফা আযম বলেছেন, গতকাল শনিবার বিকেলে তিনি অধ্যাপক গোলাম আযমের সঙ্গে বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেলে সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘উনার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ যাবৎকালের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আজ উনাকে দেখা গেল। শারীরিকভাবে এতই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে, বিছানা থেকে দু’জনে ধরে উঠাতে হয়েছে। দৃষ্টিশক্তি অনেক ক্ষীণ হয়ে এসেছে, শ্রবণশক্তি অনেক হ্রাস পেয়েছে এবং গলার আওয়াজ অত্যন্ত ক্ষীণ।’

‘হাত-পা-ঘাড়-মাথা এগুলো নাড়ানোর শক্তিও উনার নেই। দিন দিন ওজন কমছে, শুকিয়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। এ পর্যন্ত ছয়বার বাথরুমে পড়ে গেছেন। গত এক মাসের কম সময়ের মধ্যেই তিনবার পড়ে গেছেন। খাওয়া-দাওয়া প্রায় করতেই পারছেন না বলা চলে। উনার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার উনার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে গিয়েছিল এবং চিকিৎসক উনাকে উনার অবস্থা ‘Critical’ বলে জানিয়েছিলেন।’

গোলাম আযমের স্ত্রী বলেন, ‘তার স্বামীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও হাসপাতাল কিংবা জেল কর্তৃপক্ষ কেউই পরিবারকে অবহিত করেনি।’

কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞা, অযত্ন, অবহেলা, উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণে যে কোনো সময়ে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিবৃতিতে আফিফা আযম তার স্বামীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য মুক্তি দিয়ে পরিবারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাখার অনুমতি দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান।

তিনি তার স্বামীর জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।